ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
বিগত তিনটি বিতর্কিত সংসদ নির্বাচন

বাধ্যতামূলক অবসরে সাবেক ২২ ডিসি

  • আপলোড সময় : ২১-০২-২০২৫ ০৩:০৩:৩৭ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০২-২০২৫ ০৩:০৩:৩৭ অপরাহ্ন
বাধ্যতামূলক অবসরে সাবেক ২২ ডিসি
বিগত তিনটি বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ২২ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও এক যুগ্ম-সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ ২২ ডিসি এখন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগসহ নানান পদে অতিরিক্ত সচিব ও সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান। এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, বিগত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনটি বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা সাবেক জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মধ্যে যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছর হয়েছে, তাদের বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বাকিদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চাকরির বয়স ইতোমধ্যে ২৫ বছর হওয়া ২২ জন সাবেক ডিসিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। একই কারণে এর আগে ১২ কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছিল। ওএসডি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের পরিচালক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাবিনা ইয়াসমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক মো. আতাউল গনি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, মিনিস্টার স্থানীয় (যুগ্ম সচিব) কাজী এমদাদুল ইসলাম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এস এম মোস্তফা কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল, পরিকল্পনা বিভাগের যুগ্ম প্রধান মোছা. সুলতানা পারভীন, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা সদর থেকে করিমগঞ্জ উপজেলার মরিচখালী পর্যন্ত উড়ালসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আলী আকবর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. দাউদুল ইসলাম, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মাজেদুর রহমান খান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ জেড এম নুরুল হক, বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের পরিচালক এস এম অজিয়র রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সচিব মো. মাসুদ আলম ছিদ্দিক এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব গোপাল চন্দ্র দাশ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী আবু তাহের, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য মোহাম্মদ আবদুল আহাদ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব আনার কলি মাহবুব, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মাহমুদুল কবীর মুরাদ, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের বরিশালের আঞ্চলিক পরিচালক মো. আবুল ফজল মীর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সদস্য-পরিচালক মঈন উল ইসলাম, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মো. ওয়াহিদুজ্জামান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ কে এম মামুনুর রশিদ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব এস এম আবদুল কাদের, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদস্য কে এম কামরুজ্জামান সেলিম, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পরিচালক কবীর মাহমুদ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক মো. মাহমুদুল আলম ও একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক  হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন। অবশ্য কী কারণে এসব কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে, তা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি। বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
২০১৮ সালের নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দল অংশ নেয়। ওই নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। যে কারণে ২০১৮ সালের এ নির্বাচনকে অনেকেই ‘রাতের ভোটের’ নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতার অপব্যবহার, জালজালিয়াতি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দিনের ভোট রাতে করার অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশ, র?্যাবসহ জড়িত সবার বিরুদ্ধেই অনুসন্ধান করা হবে বলে সম্প্রতি জানিয়েছিলেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন।
দুদক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম, যেমন দিনের ভোট রাতে করা, ব্যালট জালিয়াতি, কিছু কেন্দ্রে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট দেখানো, ব্যাপক আর্থিক লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রার্থীকে জেতানোর বিষয়ে দুদকে কিছু অভিযোগ জমা হয়েছে। অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে প্রতিটি মহানগর, জেলা, বিভাগীয়, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সব নেতা-কর্মী নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, যেমন পুলিশের তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, র?্যাবের প্রধান বেনজীর আহমেদ, পুলিশের সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, জেলা প্রশাসক, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার, থানার অফিসার ইনচার্জ, জেলা বা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তার যোগসাজশের কথা উল্লেখ রয়েছে।
সচিবালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমান। এর আগে গত বুধবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরে কর্মরত যুগ্ম সচিব ও সমপর্যায়ের পদে থাকা প্রশাসনের ৩৩ জন কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছে সরকার। তারা ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সম্প্রতি জনপ্রশাসন সংক্রান্ত একটি কমিটি হয়েছে, সেখানে চারজন উপদেষ্টা আছেন। এই কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আছেন। আর তিনি নিজে সাচিবিক দায়িত্বে আছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে। মোখলেস উর রহমান বলেন, এই কমিটিতে কয়েকটি বড় সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে যারা রিটার্নিং কর্মকর্তা ছিলেন (ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তা হন), তারা নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৩ জনকে ওএসডি করা হয়েছে। ওএসডি করা হয়েছে যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছরের কম তাদের। আর যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছরের বেশি, তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে দেয়া হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ২২ জন সাবেক ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়ার আদেশ জারি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছরের কম, তারা ওএসডি হবেন। আর যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছরের বেশি, তারা বাধ্যতামূলক অবসরে যাবেন। আর যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকবে, তাদের বিষয়গুলো দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব জানান, যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাবেক ডিসিদের বাইরেও অন্য কর্মকর্তাদের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, যাদের নামে দুর্নীতি আছে বা যারা আইনের বাইরে গিয়ে অতিরঞ্জন কাজগুলো করেছেন, তারা চাকরিবিধি অনুযায়ী সাজা পাবেন।
সামনে ভোট, আপনারা বর্তমানে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কী বার্তা দিতে যাচ্ছেন-এমন প্রশ্নে মোখলেস উর রহমান বলেন, সামনে নির্বাচন হবে। ডিসিরা তিনদিন (ডিসি সম্মেলনে অংশ নেয়া) থেকে গেলেন। আমরা ডিসিদের এই মেসেজ দিতে চাচ্ছি-আপনারা রিটার্নিং অফিসার হবেন, ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে সাহসের সঙ্গে আইন-কানুন মেনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। যারা করবেন না, তারা এই মেসেজ পেয়ে যাবেন যে না হলে কী ফল হবে। এখন যারা অতিরিক্ত সচিব, সচিব রয়েছেন-তাদের কারও কারও বিরুদ্ধেও ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত আসছে কী না-এ বিষয়ে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে যাদের নামে দুর্নীতি, অতিরঞ্জন, আইনের বাইরে থেকে অতিরঞ্জন হিসেবে যে কাজগুলো করেছেন, তাদের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। তাদেরও চাকরিবিধির অধীনে যার যে সাজা তারাও পাবে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স